বদনজর

সেলফ রুকইয়াহ — বদনজর ও হিংসা থেকে মুক্তির পদ্ধতি

বদনজর একটি সুপ্ত ঘাতক — নিজে নিজে বদনজর ও হিংসার রুকইয়াহ করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি, হাদীসের দলিলসহ।

বদনজর একটি সুপ্ত ঘাতক। মানুষকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। এমন কোনো রোগী পাওয়া যায়নি যাকে জ্বীন আছর করেছে কিন্তু তাকে নজরের মাধ্যমে ক্ষতি করেনি।

বদনজর সম্পর্কিত হাদীসগুলো যত বেশি পড়বেন, তত আশ্চর্য হতে থাকবেন — এহেন কোনো রোগ বা ক্ষতি নেই যা এর কারণে হতে পারে না।


পদ্ধতি ১ — পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পরে

বদনজর ও হিংসার প্রভাব নষ্টের নিয়ত করে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পরে তিন কুল (সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস) তিনবার করে তিলাওয়াত করে হালকা থুথুর সাথে উভয় হাতে ফুঁ দিন। অতঃপর হাত দিয়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরো শরীর মুছে নিন।

হাদীস: আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত — রাসূলুল্লাহ ﷺ ‘মুআওয়াযাতাইন’ (সূরা ফালাক ও নাস) নাযিল হওয়ার পর থেকে এই দু’টিকেই গ্রহণ করলেন এবং পূর্বের দোয়া পরিত্যাগ করলেন। (সুনানে তিরমিযী: ২০৫৮)


পদ্ধতি ২ — পড়া পানি

৪১ বার, ২১ বার অথবা কমবেশি যতবার সম্ভব সূরা ফালাক ও নাস পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে নিয়মিত:

  • সকালে খালি পেটে পান করুন
  • রাতে ঘুমানোর পূর্বে পান করুন

পদ্ধতি ৩ — ফজর ও মাগরিবের পরে

বদনজর ও হিংসার প্রভাব নষ্টের নিয়ত করে প্রতিদিন ফজর ও মাগরিবের পরে বদনজরের রুকইয়াহ করুন।


তিন কুল

সূরা ইখলাস

قُلۡ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ۝ ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ۝ لَمۡ يَلِدۡ وَلَمۡ يُولَدۡ ۝ وَلَمۡ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ

সূরা ফালাক

قُلۡ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلۡفَلَقِ ۝ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ۝ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ۝ وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّٰثَٰتِ فِي ٱلۡعُقَدِ ۝ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

সূরা নাস

قُلۡ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ ۝ مَلِكِ ٱلنَّاسِ ۝ إِلَٰهِ ٱلنَّاسِ ۝ مِن شَرِّ ٱلۡوَسۡوَاسِ ٱلۡخَنَّاسِ ۝ ٱلَّذِي يُوَسۡوِسُ فِي صُدُورِ ٱلنَّاسِ ۝ مِنَ ٱلۡجِنَّةِ وَٱلنَّاسِ

মূল পরামর্শ: বদনজর থেকে বাঁচতে নিয়মিত ফজর ও মাগরিবের মাসনূন দোয়া পড়ার অভ্যাস করুন। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম।