চেহারা ও সৌন্দর্য হচ্ছে একজন মানুষের বদনজর পতিত হওয়ার কেন্দ্রবিন্দু। তবে কোন ব্যক্তি চেহারা ও সৌন্দর্যের বদনজরে আক্রান্ত হলে এর প্রভাব শুধু তাঁর চেহারা ও সৌন্দর্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ে।
বদনজরের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা
সাহাবীদের মধ্যে সৌন্দর্য কেন্দ্রিক বদনজরে আক্রান্ত হওয়ার একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা রয়েছে। সাহাল ইবনে হুনাইফ (রা.) নামে একজন সাহাবী ছিলেন। একদিন যখন তিনি গোসল করছিলেন, তাঁর সৌন্দর্যের উপরে আরেক সাহাবী আমের ইবনে রবীআ (রা.) এর নজর লেগে যায়।
নজরের এতটাই তীব্র প্রভাব পড়ে যে, সাথে সাথে তিনি পানিতেই বেহুশ হয়ে পড়ে যান। অবস্থার তীব্রতা দেখে নবীজি (সা.) বললেন:
“কেন তোমরা তোমারই ভাইকে (বদনজরের মাধ্যমে) হত্যা করো?”
চিকিৎসা: প্রতিরোধ
কোন রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরে প্রতিকার খোঁজার চেয়ে আক্রান্ত হওয়ার আগেই প্রতিরোধ করা উচিত।
১) সৌন্দর্যকে লুকিয়ে রাখা
মানুষকে আকর্ষণ করে এমন প্রদর্শন থেকে যথাসাধ্য বিরত থাকা। নবী হযরত ইউসুফ (আ.) এর পিতা ইয়াকুব (আ.) তাঁর সুন্দর পুত্রদের বলেছিলেন:
“তোমরা সকলে এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না; বরং ভিন্ন-ভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে।” — সূরা ইউসুফ, ৬৭
এই আদেশটি ছিল বদনজর এড়ানোর জন্য।
২) সৌন্দর্যের মধ্যে অস্থায়ী খুঁত তৈরি করা
সুশ্রী বাচ্চারা বদনজরে বেশি আক্রান্ত হয়। সোশ্যাল মিডিয়াতে বাচ্চার ছবি বা ভিডিও দেওয়ার পরে অনেক সময় বাচ্চার হঠাৎ জ্বর উঠতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে সৌন্দর্যের মধ্যে কাজলের টিকা বা অনুরূপ ছোট খুঁত দিয়ে বদনজর প্রতিরোধ করা যায়।
চিকিৎসা: প্রতিকার
বদনজরে আক্রান্ত হলে প্রতিকারের জন্য:
- গাইন থেরাপি: যার নজর লেগেছে বলে ধারণা, তার ওযুর পানি রোগীকে পান করানো ও শরীরে ঢেলে দেওয়া।
- রুকইয়াহ: বদনজরের আয়াত পাঠ করে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করানো এবং শরীরে মালিশ করা।
- সূরা পাঠ: প্রতিদিন সকাল-বিকাল সুরক্ষামূলক সূরা ও আয়াতসমূহ পাঠ করা।
বদনজর নষ্টের বিশেষ আমল
- প্রতিদিন ফজর ও মাগরিবের পরে আয়াতুল কুরসি — ৩ বার
- সূরা ফালাক ও সূরা নাস — ৩ বার করে
- সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত — প্রতি রাতে
- বদনজরের রুকইয়াহ আয়াত পাঠ করে পানিতে ফুঁ দিয়ে গোসল করা
জরুরি তথ্য: বদনজর খুবই বাস্তব একটি বিষয়। হাদীস শরীফে এসেছে — “বদনজর সত্য।” তাই এ বিষয়ে অসতর্ক না থেকে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করুন।