‘আল মাস্সুল ওয়াহমী’ সম্পর্কে জানানোর পূর্বে সংক্ষেপে মনোদৈহিক রোগ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া সমীচিন। মনের রোগ যখন প্রকট আকার ধারণ করে দেহের উপরেও তার প্রভাব বিস্তার করে, তাকেই মনোদৈহিক রোগ বলা হয়।
আল মাস্সুল ওয়াহমী কী?
সংজ্ঞা: মনস্তাত্ত্বিক কারণে ব্যক্তির আচরণ জ্বীনের রোগীর মতো, কিন্তু মূলত তাঁর মধ্যে জ্বীনের আছর নেই — তাকেই বলে আল মাস্সুল ওয়াহমী। এটিকে ‘আল মাস্সুল হাওয়াই’-ও বলে।
এমন মনে হতে পারে — “এটা কি সম্ভব?” — জ্বী, সম্ভব। “এমনটাও কি হয়?” — শুধু হয়-ই না, অহরহ হয়।
কারণসমূহ
নানা কারণে একজন মানুষ আল মাস্সুল ওয়াহমীতে আক্রান্ত হতে পারেন:
- রুকইয়াহ সম্পর্কিত অসম্পূর্ণ জ্ঞান
- জ্বীন-যাদু সম্পর্কিত অতিরিক্ত ভীতি ও কুসংস্কার
- মানসিক ট্রমা
- পরিবার বা নিকটস্থ লোকদের মধ্যে জ্বীন-যাদুর পূর্ব ইতিহাস
কাদের মধ্যে পাওয়া যায়?
বিশেষজ্ঞের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে — দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর যে সমস্ত রোগীরা এক রাক্বী থেকে অন্য রাক্বীর কাছে ঘুরাঘুরি করেও সুস্থ হচ্ছেন না — তাদের মধ্যে কেউ জটিল যাদু ও শক্তিশালী জ্বীনের রোগী, আবার কেউ আল মাস্সুল ওয়াহমী তে আক্রান্ত।
চিকিৎসা
আল মাস্সুল ওয়াহমীর ক্ষেত্রে:
- সঠিক ডায়াগনোসিস করা জরুরি
- মানসিক কাউন্সেলিং প্রয়োজন
- অতি ভীতি পরিত্যাগ করতে হবে
- আল্লাহর উপর ভরসা দৃঢ় করতে হবে
- স্বাভাবিক রুকইয়াহ আমল চালিয়ে যেতে হবে
গুরুত্বপূর্ণ বার্তা: সমস্যার সঠিক কারণ না জানলে চিকিৎসা কার্যকর হয় না। তাই প্রথমে সঠিক ডায়াগনোসিস করা সবচেয়ে জরুরি।