একজন মানুষ অপর মানুষ ও জ্বীনদের বদনজর দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে — এটা কমবেশি আমরা সকলেই জানি। আবার অন্যান্য প্রাণীও মানুষের বদনজর দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে — এটাও অনেকে জানেন।
কিন্তু মানুষ যে সাপ, কুকুর ও বিড়ালের নজর দ্বারাও আক্রান্ত হতে পারে — এ বিষয়টি অনেকেই জানেন না।
মতভেদ ও গ্রহণযোগ্য মত
বিষয়টি মতভেদপূর্ণ। বেশিরভাগ উলামায়ে কেরাম সমর্থন করলেও কিছু বিরোধিতাও রয়েছে।
আমার কাছে প্রাধান্যযোগ্য মত:
- সাপ ও কুকুরের নজরের ক্ষমতা সরাসরি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত
- বিড়ালের নজরের কোনো সুনির্দিষ্ট হাদীস না থাকলেও শায়খ খালিদ আল হিবশীসহ বড় মাপের আরব রাক্বীগণ অভিজ্ঞতার আলোকে বিড়ালের নজরকেও স্বীকার করেছেন
বিশেষ সতর্কতা: অভুক্ত কুকুর ও বিড়ালের সামনে তাদেরকে না দিয়ে খাবার খেলে তাদের নজর লাগার সম্ভাবনা বেশি।
সাপের নজর সংক্রান্ত হাদীস
১) সায়েবা (রা.) হতে বর্ণিত — রাসূলুল্লাহ (সা.) সেই সমস্ত সাপকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন যা ঘরে বাস করে। তবে যুততুফয়াতাইন ও আবতর জাতীয় সাপ হত্যা করতে নিষেধ করেননি — কেননা এই দুই প্রকার সাপ চক্ষু নষ্ট করে এবং মহিলাদের গর্ভ নষ্ট করে। (মুয়াত্তা মালিক — ২৭৯৭)
“যুততুফয়াতাইন” — যে সাপের পেটে দুইটি লম্বা সাদা দাগ আছে মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত। “আবতর” — লেজকাটা বা ছোট লেজ বিশিষ্ট সাপ; অত্যন্ত বিষাক্ত।
২) ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত — নবী (সা.) মিম্বারের উপর ভাষণ দেওয়াকালে বলেছেন: “সাপ মেরে ফেলো।” বিশেষ করে মাথার উপর দু’টো রেখা আছে এমন সাপ এবং লেজ কাটা সাপ — কেননা এই দুই প্রকারের সাপ চোখের জ্যোতি নষ্ট করে ও গর্ভপাত ঘটায়। (সহীহ বুখারী — ৩২৯৭, ৩২৯৮, ৩২৯৯, ৩৩০৮)
৩) ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত — রাসূলুল্লাহ (সা.) সাপ ও কুকুর নিধনের হুকুম জারী করতেন। বলতেন, পিঠে দু’সাদা রেখাবিশিষ্ট ও লেজবিহীন সাপ মেরে ফেল — কেননা এ দুটি মানুষের দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেয় এবং গর্ভবতীদের গর্ভপাত ঘটায়। (সহীহ মুসলিম — ২২৩৩)
৪) সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত — রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “দু’দাগ ও ক্ষুদ্র লেজ বিশিষ্ট সাপ হত্যা করো — কেননা এগুলো চোখের জ্যোতি নষ্ট করে এবং গর্ভপাত ঘটায়।” (সুনানে তিরমিযী — ১৪৮৩)
৫) আবূ লুবাবা (রা.) থেকে বর্ণিত — রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘরে বসবাসকারী সাপ মারতে নিষেধ করেছেন — কিন্তু দু’মুখ ও লেজকাটা সাপ মারার নির্দেশ দেন — কেননা এরা দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে এবং গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি করে। (সুনানে আবু দাউদ — ৫২৫৩, ৫২৫৪, ৫২৫৫)