বিবিধ

রাগ নিয়ন্ত্রণের নববী (স.) প্রেসক্রিপশন

অনিয়ন্ত্রিত রাগ মারাত্মক ক্ষতিকারক — নবীজি (স.) রাগ নিয়ন্ত্রণের চারটি কার্যকর পদ্ধতি শিখিয়েছেন।

রাগ মানবিক আবেগের অংশ বিশেষ। তবে অনিয়ন্ত্রিত রাগ মারাত্মক ক্ষতিকারক। ইসলাম মানুষকে রাগ নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দিয়েছে।

আল্লাহর রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে মুত্তাকীদের পরিচয় দিতে গিয়ে ইরশাদ করেছেন —

“যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল উভয় অবস্থায় (আল্লাহর রাস্তায়) ব্যয় করে এবং রাগ দমন করে ও মানুষকে ক্ষমা করে — আর আল্লাহ সদাচারীদের ভালোবাসেন।” সূরা আলে ইমরান — ১৩৪

আরবীতে প্রসিদ্ধ প্রবাদ রয়েছে — ‘রাগের শুরু উন্মাদনা, পরিণতি লজ্জা।‘


নববী প্রেসক্রিপশন

১) অবস্থান পরিবর্তন করুন

রাগ উঠুক উঠুক ভাব হলে সাথে সাথে অবস্থান পরিবর্তন করুন।

  • বসা থাকলে → দাঁড়িয়ে যান
  • দাঁড়ানো থাকলে → বসুন
  • শুয়ে থাকলে → উঠে পড়ুন

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যদি তোমাদের কেউ দাঁড়ানো অবস্থায় রাগান্বিত হয়ে পড়ে, তবে তার উচিত বসে পড়া। যদি তার রাগ কমে যায়, তবে ভালো; নয়তো তার উচিত শুয়ে পড়া।’ সুনান আবু দাউদ — ৪৭৮২, মুসনাদে আহমাদ — ২১৩৪৮

২) অজু করুন

রাগ উঠুক উঠুক ভাব হলে তৎক্ষণাৎ নতুন অজু করুন।

নবীজি (সা.) বলেন, ‘রাগ আসে শয়তানের পক্ষ থেকে; শয়তানকে তৈরি করা হয়েছে আগুন থেকে, আর একমাত্র পানির মাধ্যমেই আগুন নেভানো সম্ভব। তাই তোমাদের মধ্যে কেউ যখন রাগান্বিত হয়ে পড়ে, তার উচিত অজু করা।’ সুনান আবু দাউদ — ৪৭৮৪, মুসনাদে আহমাদ — ১৭৯৮৫

৩) আউযুবিল্লাহ পড়ুন

বারবার পড়ুন — “আঊযু বিল্লাহি মিনাশ্ শাইত্বনির রজীম”

নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আমি এমন একটি কালিমা জানি, যা পাঠ করলে রাগ দূর হয়ে যাবে — (আর তা হলো) আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতনির রজীম।’ সহীহ বুখারী — ৬০৪৮, সহীহ মুসলিম — ২৬১০

৪) চুপ থাকুন

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলে কারীম (সা.) ইরশাদ করেছেন —

“যখন তুমি রাগান্বিত হবে, তখন চুপ থাকো।” (তিনবার বললেন) মুসনাদে আহমাদ — ২৫৫৬


এভাবে কয়েকবার ও কয়েকদিন আমল করতে থাকলে রাগ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে — ইনশাআল্লাহ।