রাগ মানবিক আবেগের অংশ বিশেষ। তবে অনিয়ন্ত্রিত রাগ মারাত্মক ক্ষতিকারক। ইসলাম মানুষকে রাগ নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দিয়েছে।
আল্লাহর রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে মুত্তাকীদের পরিচয় দিতে গিয়ে ইরশাদ করেছেন —
“যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল উভয় অবস্থায় (আল্লাহর রাস্তায়) ব্যয় করে এবং রাগ দমন করে ও মানুষকে ক্ষমা করে — আর আল্লাহ সদাচারীদের ভালোবাসেন।” সূরা আলে ইমরান — ১৩৪
আরবীতে প্রসিদ্ধ প্রবাদ রয়েছে — ‘রাগের শুরু উন্মাদনা, পরিণতি লজ্জা।‘
নববী প্রেসক্রিপশন
১) অবস্থান পরিবর্তন করুন
রাগ উঠুক উঠুক ভাব হলে সাথে সাথে অবস্থান পরিবর্তন করুন।
- বসা থাকলে → দাঁড়িয়ে যান
- দাঁড়ানো থাকলে → বসুন
- শুয়ে থাকলে → উঠে পড়ুন
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যদি তোমাদের কেউ দাঁড়ানো অবস্থায় রাগান্বিত হয়ে পড়ে, তবে তার উচিত বসে পড়া। যদি তার রাগ কমে যায়, তবে ভালো; নয়তো তার উচিত শুয়ে পড়া।’ সুনান আবু দাউদ — ৪৭৮২, মুসনাদে আহমাদ — ২১৩৪৮
২) অজু করুন
রাগ উঠুক উঠুক ভাব হলে তৎক্ষণাৎ নতুন অজু করুন।
নবীজি (সা.) বলেন, ‘রাগ আসে শয়তানের পক্ষ থেকে; শয়তানকে তৈরি করা হয়েছে আগুন থেকে, আর একমাত্র পানির মাধ্যমেই আগুন নেভানো সম্ভব। তাই তোমাদের মধ্যে কেউ যখন রাগান্বিত হয়ে পড়ে, তার উচিত অজু করা।’ সুনান আবু দাউদ — ৪৭৮৪, মুসনাদে আহমাদ — ১৭৯৮৫
৩) আউযুবিল্লাহ পড়ুন
বারবার পড়ুন — “আঊযু বিল্লাহি মিনাশ্ শাইত্বনির রজীম”
নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আমি এমন একটি কালিমা জানি, যা পাঠ করলে রাগ দূর হয়ে যাবে — (আর তা হলো) আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতনির রজীম।’ সহীহ বুখারী — ৬০৪৮, সহীহ মুসলিম — ২৬১০
৪) চুপ থাকুন
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলে কারীম (সা.) ইরশাদ করেছেন —
“যখন তুমি রাগান্বিত হবে, তখন চুপ থাকো।” (তিনবার বললেন) মুসনাদে আহমাদ — ২৫৫৬
এভাবে কয়েকবার ও কয়েকদিন আমল করতে থাকলে রাগ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে — ইনশাআল্লাহ।