পড়ালেখায় মনোযোগী ও মেধাতালিকায় ক্লাসের প্রথম সারির ছাত্র-ছাত্রী হঠাৎ করেই যদি —
- পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়ে ওঠে
- পড়তে বসতে চায় না
- পড়তে বসলেই মাথাব্যথা করে
- পরীক্ষা আসলেই অসুস্থ হয়ে যায়
— তাহলে সমূহ সম্ভাবনা আছে যে, উক্ত ছাত্র-ছাত্রী ‘জ্বীনের আছর, যাদু কিংবা পড়ালেখার উপরে হাসাদ’ এর কোনো একটিতে আক্রান্ত হয়েছে।
তাকে ‘রুকইয়াহ’ করলে আশা করা যায় সমস্যা কেটে যাবে — ইনশাআল্লাহ।
কেস স্টাডি
এই কিছুদিন পূর্বেই ঢাকা সেন্টারে এই ধরণের একজন রোগী এসেছিলেন।
মেয়েটি কওমী মাদরাসায় পড়ুয়া ছাত্রী। ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল। সারাদিন কিতাব নিয়ে পড়ে থাকাই ছিলো যার অভ্যাস।
হঠাৎ করেই:
- লেখাপড়ায় মন বসে না
- যে মেয়ে মাদরাসা থেকে বাসায়ই আসতে চাইতো না — তার এখন মাদরাসায় যেতেই ভালো লাগে না
- মাদরাসার কথা শুনলেও যেন অসুস্থ হয়ে যায়
- পড়তে বসলেই মাথাব্যথা করে
- পরীক্ষা আসলে একদমই অসুস্থ হয়ে যায়
অনেক ডাক্তার-কবিরাজ দেখিয়েছে — জ্বীনের সমস্যা, যাদুর সমস্যা ইত্যাদি বিভিন্নজন বিভিন্ন মন্তব্য করেছে, হরেক রকমের ট্রিটমেন্ট দিয়েছে — প্রায় পাঁচ বছরেও রোগী সুস্থ হচ্ছিলো না।
রোগ নির্ণয়
বিস্তারিত হিস্ট্রি শুনেই আঁচ করা গেলো হাসাদের সমস্যা।
রুকইয়াহর পরিভাষায় এই সিচুয়েশনকে বলা হয় —
“হাসাদুল আসহাব ওয়াল আসদিকাই ওয়াঝ ঝুমালাই আলাদ দিরাসাহ” (বন্ধু, বান্ধবী বা সহপাঠীদের পক্ষ থেকে পড়ালেখার উপরে হিংসা)
রুকইয়াহ সেশন
দরুদে ইব্রাহীম পড়ে হাসাদের প্রভাব ধ্বংসের নিয়তে পড়া হলো:
- রুকইয়াহ জিবরীল
- সূরা ফালাকের শেষ আয়াত
- সূরা বাকারার ১০৯ নং আয়াত
- সূরা নিসার ৫৪ নং আয়াত
কিছুক্ষণের মধ্যেই রোগীর প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে খিঁচুনি টাইপের অবস্থা হলো, চেয়ারে বসা অবস্থায় বাঁকা হয়ে এক হাত প্রায় উঁচু হয়ে গেলো। তিলাওয়াত চলতে থাকলো — এক পর্যায়ে শান্ত ও স্বাভাবিক হয়ে গেলো।
আলহামদুলিল্লাহ!